জুরাছড়িতে বাদামের  বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা


স্মৃতিবিন্দু চাকমা    |    ০১:৩৯ পিএম, ২০২০-১২-২০

 জুরাছড়িতে বাদামের  বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

খালের দু পাড়ে বাদাম ক্ষেত গুলো দেখলে মন জুড়ে যায়।শুধু বাদাম ক্ষেত আর ক্ষেত,একটি সময়ে ৩নং মৈদং ইউনিয়ন পরিচিত লাভ করেছিল তামাক চাষে,অধিকাংশ কৃষক তামাক চাষের উপড় নির্ভরশীল ছিলেন,তামাক চাষ করে কিছু কৃষক লাভবান হতে পারলেও অনেক কৃষকের লোকসান গুনতে হয়েছে। অনেক কৃষক বর্তমানে তামাক বাদ দিয়ে বাদাম,হলুদ চাষের ক্ষেত্রে মনোনিবেশ হয়েছেন। তবে একেবারে যে,তামাক পরিহার হয়েছে তা নয়, বিগত সময়ের তুলনায় কিছুতা সীমিত আকারে চলে আসছে। আশাকরা যাচ্ছে ধীরে ধীরে  জুরাছড়ি উপজেলা থেকে তামাক চাষকে পরিহারের পথে রয়েছেন কৃষকেরা।  গত ১৬ ই ডিসেম্বর ২০২০ ফকিরাছড়ির উদ্দেশ্য যাওয়ার পথে এমনই মনোরম  সবুজ বাদাম ক্ষেতের দৃশ্য চোখে পড়ল।

 কথা হয় কৃষাণী কালাচোগী চাকমা’র সাথে তিনি জানান,আমরা বিগত সময়ে তামাক চাষ করেছিলাম,কিন্তু আমাদের একদিকে পরিবেশ অপরদিকে স্বাস্থ্যগতভাবেও ক্ষতি হয়েছে। শুধু তাই নয় প্রতি বছর লোকসান গুনতে হয়েছে,তাই এবার তামাকের পরিবর্তে  বাদাম চাষ করে লাভবান হওয়ার আশা প্রকাশ করেন।
কৃষক সুজন বিকাশ চাকমা থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন,গত বছর বাদাম চাষ করে এক লক্ষ টাকার উপড়ে আয় হয়েছে। এবছর ফলন আরো বেশী ভালো হওয়াতে ২লক্ষ টাকার অধিক লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।

একই সুরে কৃষাণী শুভদীনি চাকমা বলেন, ঘরে বসে ব্যাবসায়ীদের কাছে থেকে প্রতি কেজি ১২০ টাকা হারে আমরা বাদাম বিক্রি করে থাকি। বাদাম চাষে তেমন প্ররিশ্রম নেই,বর্ষার পানিতে পলি জমাতে বেঁধে থাকায় সারও তেমন প্রয়োগ করতে হয়না। যদি কোন প্রকার বাদাম ক্ষেতে রোগ বালাই দেখা দিলে কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে থাকি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুষ্মিতা চাকমা বলেন,জুরাছড়ি উপজেলার মোট ৯ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হচ্ছে, তার মধ্যে মৈদং ইউনিয়নে ৩ হেক্টর। গত বছর প্রতি হেক্টর থেকে ১.৮ মে.টন বাদাম উৎপাদন হয়েছিল।  এবছর হেক্টর প্রতি ২মে.টন বাদাম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

মৈদং ইউনিয়নে দায়িত্বরত কৃষি উপ-সহকারি শুভক্ষণ খীসা জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর অনেক কৃষক বাদাম,হলুদ সহ অন্যান্য চাষে মনোনিবেশ হয়েছেন।খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে  কৃষকদের  পাশে থেকে সর্বদা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। আশাকারা যাচ্ছে এবছর বাদাম চাষ করে  কৃষকরা লাভবান হতে পারবে।